চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, একটি স্বৈরাচার সরকারের স্বৈরাচারী মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তবে তার নিজের মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপরই নির্বাচন হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি।

২২ ফেব্রুয়ারি, রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার হালিশহর এইচ ব্লকে একটি পার্ক ও ওয়াকওয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে টিকে আছেন এবং আদালতের রায়কে ঐতিহাসিক উল্লেখ করেন। তার দাবি, আগের নির্বাচনে ভয়ভীতি, নির্যাতন এবং অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সময় ফলাফলের প্রিন্টেড কপি না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের কারণেই আদালতে মামলা করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আদালতের রায়ে সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী–এর মেয়াদকাল অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় তিনি শপথ নেওয়ার দিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করছেন। সেই হিসেবে তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
ডা. শাহাদাত দাবি করেন, তিনি একটি গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচনের মুখোমুখি হতে চান। তার ভাষায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি এখনো এমন পরিবেশে ভোট দিতে পারেননি। তাই গণতান্ত্রিক পরিবেশে নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ চান।
সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের রায়ই শেষ কথা। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হয়েছিল, তবে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে দিয়েছে। এ সময় তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান–এর জনপ্রিয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। তার আবেদনের পর মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে বলেও জানান তিনি। কাউন্সিলর না থাকায় নগরবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উল্লেখ করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দল তাকে প্রার্থী মনোনয়ন দিলে তফসিল ঘোষণার পর পদত্যাগ করবেন। জনগণের রায়ের ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন মেয়র।
এসএস



