চট্টগ্রামে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রবাসীর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই করা স্বর্ণালংকার ও বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।

১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর ডিবি দক্ষিণ বিভাগ অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ সোহেল ওরফে সোহেল রানা (৪০) এবং উত্তম চৌধুরী ওরফে রবি চৌধুরী (৪০)কে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ৫ ভরি ১৫ আনা স্বর্ণালংকার এবং স্বর্ণ বিক্রির নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শফিউল আলম গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দুবাই থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছান। পরে একটি ভাড়া গাড়িতে করে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় নিজ বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। তার সঙ্গে প্রায় ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার, চারটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ টাকা ছিল।

খুলশী থানার টাইগারপাস থেকে লালখান বাজারের মধ্যবর্তী ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভারে পৌঁছালে একটি নোহা গাড়ি তার গাড়ির গতিরোধ করে। সেখান থেকে চারজন ব্যক্তি নেমে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওয়াকিটকি প্রদর্শন করে। পরে তারা জোরপূর্বক স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ১৯ ফেব্রুয়ারি খুলশী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থানা পুলিশ ও ডিবি দক্ষিণ বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল কোতোয়ালি থানার কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারীর ইছাপুর বাজারের আমিন মার্কেটের আমানত শাহ জুয়েলার্স থেকে উত্তম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, হাটহাজারী বাজারের এসএম শপিং সেন্টারের একটি জুয়েলার্স দোকান থেকে ৬৯ দশমিক ৩৯ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা জানিয়েছেন, তারা বিদেশফেরত প্রবাসীদের টার্গেট করে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই করতেন। ছিনতাই করা স্বর্ণ উত্তম চৌধুরীর মাধ্যমে বিক্রি করা হতো। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
এসএস



