শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

রমজানে খাতুনগঞ্জে নিত্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজানের শুরুতে আমদানি বৃদ্ধি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় প্রধান ভোগ্যপণ্যের বাজারে বড় ধরনের মূল্যচাপ তৈরি হয়নি। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। মাসের শুরুতে বন্দরকেন্দ্রিক আন্দোলন ও নির্বাচনী ছুটির কারণে সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়তি চাহিদার এই সময়ে সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখা জরুরি।

দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জ ঘুরে এবং আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোলা, মটর ও খেজুরসহ রমজানকেন্দ্রিক পণ্যে কোনো ঘাটতি নেই। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ছোলার আমদানি বেশি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় দাম কম রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, মটর ডাল ছাড়া রমজান সংশ্লিষ্ট প্রায় সব পণ্যের আমদানি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও গমের আমদানি ঊর্ধ্বমুখী। খেজুরের আমদানি সামান্য কমলেও আগের মজুত থাকায় সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

আমদানিকারকদের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে। চট্টগ্রাম প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টিন স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে খেজুর আমদানি হয়েছে ৫২ হাজার ৬৮৯ মেট্রিক টন, ছোলা ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন এবং মসুর ডাল ২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৮৯ মেট্রিক টন। পাশাপাশি আপেল ও কমলার আমদানিও উল্লেখযোগ্য।

পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজান সামনে রেখে বেচাকেনা জমে উঠছে। বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়মিত পণ্য আসছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ছোলা, চিনি, পেঁয়াজ, খেসারি ও খেজুরসহ বেশিরভাগ পণ্যের সরবরাহ চাহিদা মেটানোর মতোই রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ বেশি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডালজাত পণ্যে সীমিত মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। ছোলা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮২ টাকায়। মসুর ডাল মানভেদে ৭৫ থেকে ১৬০ টাকা, খেসারি ৭৬ থেকে ৮০ টাকা এবং মুগডাল ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দরসংক্রান্ত অস্থিরতা ও নির্বাচনী বিরতির প্রভাবেই এই ওঠানামা।

পাইকারি ব্যবসায়ী পি কে মজুমদারের ভাষ্য, গত বছর ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হওয়া মটর এখন ৫১ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, আর অস্ট্রেলিয়ান মটর ৭৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪২ থেকে ১৫১ টাকার মধ্যে।

মেসার্স সুমন ট্রেডিংয়ের মালিক সঞ্জয় দেব বলেন, আমদানি স্বাভাবিক থাকায় ছোলা-মটরসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তার মতে, রমজানে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা কম, যদিও আগের বছরের তুলনায় বেচাকেনা কিছুটা কম।

খুচরা বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, রোজা ঘনিয়ে আসায় ক্রেতা বাড়ছে এবং স্থিতিশীল দামের কারণে বিক্রি আরও বাড়ার আশা করছেন তারা। খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ জাহেদী বলেন, পেঁয়াজের মৌসুম চলায় সরবরাহ ভালো এবং বেচাকেনা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়, যদিও চিনির দাম কেজিতে কিছুটা বেড়েছে।

এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত