দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একাধিক মামলায় চট্টগ্রামের শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক খলিলুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে ন্যাশনাল ব্যাংক–সংক্রান্ত অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।

১ ফেব্রুয়ারি, রোববার তিনি ঢাকার মহানগর আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরদিন সোমবার আবারও জামিন আবেদন করা হলেও সেটিও খারিজ করেন বিচারক।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে দেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে সাদ মুসা গ্রুপ সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় খলিলুর রহমানসহ ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১–এ উপপরিচালক রাম প্রসাদ মন্ডল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ৪৯০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন নিয়ে তা নগদ উত্তোলন ও ভিন্ন খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় ব্যাংকের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর খলিলুর রহমানের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাঁকে পুলিশ প্রহরায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি। তবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, কারাবিধি অনুসরণ করেই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এই মামলায় সিকদার গ্রুপের চার পরিচালক—ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার, তাঁর ভাই রিক হক সিকদার, তাঁদের মা মনোয়ারা সিকদার এবং বোন ও সাবেক সংসদ সদস্য পারভীন হক সিকদার—আসামি হয়েছেন। এ ছাড়া সাবেক পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমসহ ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তার নাম রয়েছে মামলার এজাহারে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২৪ মে খলিলুর রহমানসহ ন্যাশনাল ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ১৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।
প্রণোদনার ৪০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের আরেক মামলা
কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেওয়া প্রণোদনার ঋণের ৪০৪ কোটি টাকা আত্মসাতে সহায়তার অভিযোগেও খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা রয়েছে। গত বছরের মে মাসে দুদক এই মামলা করে। এতে সিকদার পরিবারের চার সদস্যসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে রেডিয়াম কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের নামে প্রণোদনার ঋণ নেওয়া হয় এবং সেই অর্থ একাধিক প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, এ অর্থ দিয়ে বাণিজ্যিক সম্পদ কেনা, পুরোনো ঋণ পরিশোধ ও আমদানি দায় মেটানো হয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ঋণের শর্ত ভেঙে অর্থ স্থানান্তর ও আত্মসাতের ফলে ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে ওই ঋণের স্থিতি ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৩ কোটি টাকায়। এই মামলায় এরই মধ্যে কয়েকজন আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের পর দীর্ঘ সময় ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কার্যত একটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তদন্ত শেষে দুদক এসব অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
এসএস



