ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ দুইটি আসনে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলীয় নতুন সমীকরণ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর) আসনে প্রয়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে নির্বাচন করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শেষমুহুর্তে এই মনোনয়ন বিএনপির নির্বাচনী চমক হয়ে ধরা দিয়েছে সবার কাছে। উচ্ছ্বসিত নোমান অনুসারী হাজারো বিএনপি নেতাকর্মী। বিশেষত, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার দুইদিনের মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমানের পরিবারকে এমন মূল্যায়ন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রার্থী পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত হবে। বিশেষ করে সমঝোতার মাধ্যমে ১০ ও ১১ নম্বর আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটে নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম-১০ আসনে সাঈদ আল নোমান এবং চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়েছে।’
নানা রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনা বিবেচনায় চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। সাঈদ আল নোমান তুর্য দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় জনসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তার এই সক্রিয়তা ও জনপ্রিয়তা প্রার্থী নিশ্চিত করতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১১ আসনে পুনরায় মনোনয়ন পাওয়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালে উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেন এবং ২০১৮ সালে বন্দর-পতেঙ্গা এলাকা থেকে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।
প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম-১০ আসনটি আমীর খসরু তার ছেলে ইস্রাফিল খসরুর জন্য চেয়েছিলেন। তবে প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান তুর্য আগে থেকেই ওই এলাকায় সক্রিয় থাকার কারণে তাকে এ আসন দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম-১১ আসনে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়া হয় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে।
বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে সাঈদ আল নোমান বলেন, দলের পক্ষে আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমি দলের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং এর সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
আবদুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রামে ‘রাজনীতির বরপুত্র’ হিসেবে খ্যাত ছিলেন। দলমত, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছেই গ্রহণযোগ্যতা ছিল। ষাটের দশকে ছাত্র ইউনিয়ন এবং পরবর্তীতে ভাসানীপন্থী ন্যাপের বাম রাজনীতি করে আসা নোমান ১৯৮১ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যোগ দিয়েছিলেন বিএনপিতে। সেই থেকে শুরু। আশি-নব্বইয়ের দশক এবং এর পরবর্তী আরও অন্তঃত এক দশক চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে আবদুল্লাহ আল নোমানকে ঘিরেই।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আবদুল্লাহ আল নোমানের জীবনাবসান ঘটে। আমৃত্যু তিনি বিএনপির সঙ্গেই ছিলেন। সর্বশেষ তিনি দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। নোমানের মৃত্যুর পর তাঁর অনুসারীরা সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে টেনে আনেন সাঈদ আল নোমানকে। তিনি জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। চট্টগ্রাম-১০ আসনে নিয়মিত রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন তিনি। উচ্চশিক্ষিত সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রামে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান।
আবদুল্লাহ আল নোমান ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বর্তমানে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দু’বারই মন্ত্রী হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি ওই আসনের পরিবর্তে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি ওই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন।
এসএস



