এশিয়ার সর্ববৃহৎ এবং বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধে অভিযান আবারো চালিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।
১৮ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে হালদা নদীর বিভিন্ন অংশে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেন হালদা প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাহারাদার হোসাইন, শহিদুল, মোতালেব, সেকান্দার ও আবুল হাশেম।
সকাল সাড়ে ৯টা থেকে টানা অভিযান পরিচালনা করা হয় গড়দোয়ারা স্লুইচগেট থেকে ফটিকছড়ির নাজিরহাট ব্রিজ পর্যন্ত।
অভিযানে নদীতে অবৈধভাবে পাতা দুটি চরঘেরা জাল জব্দ করা হয়, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিটার। পাশাপাশি মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত ১৮টি বড়শি উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।
মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, হালদা নদী দেশের মৎস্য সম্পদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন কার্পজাতীয় মাছ এ নদীতে ডিম ছাড়ে। কিন্তু অবৈধ জাল, চরঘেরা জাল ও বড়শির ব্যবহার প্রজনন প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী হালদা নদীতে নির্দিষ্ট সময় ও এলাকায় এ ধরনের জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও মাছের প্রজনন রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার হলে হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আরও কার্যকর হবে।
এসএস



