শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

ফটিকছড়িতে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার : আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা?

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মা ও দেড় বছরের মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিত খুন; তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ফটিকছড়ি উপজেলার বিবিরহাট বাজার সংলগ্ন চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি সড়কের পাশে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পেছনে কামাল ভবনের নিচতলার শয়নকক্ষ থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ।

নিহত গৃহবধূ আফরোজা আফরিন (২৬) উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি ও কামাল ভবনের মালিক কৃষিবিদ মো. কামাল উদ্দিনের পুত্র এনজিওকর্মী মো. আনোয়ার হোসেন বিবলুর স্ত্রী। নিহত শিশুটির নাম আতকিয়া আয়েশা, বয়স ১৬ মাস। নিহতের স্ত্রী বাঁখালীতে কর্মরত আছেন।

জানা যায়, আজ সকালে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দরজা খুলতে চেষ্টা করেন। পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মা–মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

শ্বশুর কামাল উদ্দিন বলেন, তাঁর পুত্রবধূ মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং বিভিন্ন সময় ঝাড়ফুঁকসহ চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।সম্ভবত মানসিক অস্থিরতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

তবে নিহত আফরিনের স্বজনদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আফরিন ও তাঁর স্বামীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। আফরিনের আত্মীয় মো. শরীফ হোসেন বলেন, আপুর মানসিক রোগ বলে কিছুই ছিল না। তিনি গত রাতেই বড় আপুর সঙ্গে আনন্দে ভিডিও কলে কথা বলেছেন। এটা স্পষ্টতই সাজানো মৃত্যু।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁরা অভিযোগ করেন, পুলিশের নীরব ভূমিকা মনে হচ্ছে কিছু গোপন করার চেষ্টা চলছে।

ফটিকছড়ি থানার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গৃহবধূ আফরিন তার শিশুকন্যাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু বলা যাবে না।

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত