বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

আগে ব্যবসায়ীরা কথা বলার সুযোগ পেতেন না, সেই প্রথা আর চলবে না

চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে নুরুল হকের প্রতিশ্রুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে চট্টগ্রাম চেম্বারকে ব্যবসায়ীবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম চেম্বারে আগে কোনো ব্যবসায়ী কথা বলার সুযোগ পেতেন না। তাঁদের মতামতের কোনো মূল্য দেওয়া হতো না। সেই প্রথা আর চলবে না।’

গতকাল সোমবার নগরের পাঁচলাইশের ‘কিং অব চিটাগাং’–এ সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম ব্যবসায়ী পরিষদের আহ্বায়ক শাজাহান মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যের হৃদপিণ্ড। এখানে শিল্প, বন্দর, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ খাতের উন্নয়ন দ্রুত হলে জাতীয় অর্থনীতির চেহারা বদলে যাবে।

নুরুল হক বলেন, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের ঐক্যই হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতির পুনর্জাগরণের ভিত্তি। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, ভ্যাট–ট্যাক্স নীতিতে স্বচ্ছতা ও বন্দরনির্ভর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করবে তাঁর প্যানেল।

সভায় সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের ১৮ প্রার্থীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
এসোসিয়েট গ্রুপে ছিলেন—এস এম নুরুল হক, মো. কামরুল হুদা, মোহাম্মদ আইয়ুব, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোস্তাক আহমদ চৌধুরী ও এস এম কামাল উদ্দিন।
অর্ডিনারি গ্রুপে ছিলেন—জসিম উদ্দিন চৌধুরী, এটিএম রেজাউল করিম, আহমেদ রশিদ আমু, আহমেদ–উল আলম চৌধুরী (রাসেল), ইমাদ এরশাদ, কাজী ইমরান এম রহমান, মো. আবচার হোসেন, মো. আরিফ হোসেন, মো. হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী, মোহাম্মদ আজিজুল হক, মোহাম্মদ রাশেদ আলী ও মোহাম্মদ মুছা।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চসিকের সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালী এবং ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ডা. এস এম ফজলুল হক

অধ্যক্ষ নুরুল আমিন বলেন, ‘চেম্বারকে পরিবারতন্ত্র ও স্বৈরাচার থেকে বের করতে হবে। এই চেম্বার কোনো দুর্নীতিবাজদের হাতে যাবে না—চেম্বার হবে ব্যবসায়ীদের।’

শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, ‘বিগত সময়ে কিছু গোষ্ঠী চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের এই চেম্বারকে নিজের সম্পদ মনে করে দখল করে রেখেছে। ইনশা আল্লাহ, আগামী ১ নভেম্বর তাদের পরাজয় নিশ্চিত।’

ডা. ফজলুল হক বলেন, চট্টগ্রামই দেশের রাজস্ব আয়ের মূল কেন্দ্র। অথচ এখানকার অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে যথাযথ বিনিয়োগ নেই। বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও রপ্তানি কার্যক্রম থেকে যে আয় হয়, তার একটি অংশ চট্টগ্রামের উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া উচিত।

সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন—বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন, টায়ার–টিউব ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশন, খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতি, টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতি, তামাকুমন্ডি লেন ব্যবসায়ী সমিতি, বৃহত্তর চকবাজার ব্যবসায়ী সমিতি, ফলমন্ডি ব্যবসায়ী সমিতি, জুবিলি রোড ও রিয়াজুদ্দিন বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতিসহ অনেকে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামে এখন আর ব্যবসায়িক পরিবেশ নেই। প্রতিনিয়ত ভ্যাট–ট্যাক্সের হয়রানি ও প্রশাসনিক জটিলতায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁরা বলেন, অতীতে যারা চেম্বারের নেতৃত্বে ছিলেন, তারা ব্যবসায়ীদের স্বার্থে নয়, নিজেদের স্বার্থে কাজ করেছেন। এবার সেই ধারার অবসান ঘটাতে হবে।

চেম্বারকে ‘পকেট কমিটি’ নয়, বরং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন উপস্থিত ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেন, এবার কেউ যেন কোটা বা গোষ্ঠীগত সুবিধা নিয়ে নেতৃত্বে আসতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

চট্টগ্রামকে প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁরা বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে চেম্বার থেকেই চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীর মর্যাদা ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, দেশের প্রধান বন্দর চট্টগ্রাম হলেও এর লভ্যাংশ থেকে চট্টগ্রামের উন্নয়নে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায় না—এটি চট্টগ্রামের প্রতি অবিচার।

তাঁরা বলেন, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের বড় সমস্যা হলো ওজন স্কেল। এর পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তাহীনতা, পণ্যচুরি ও পুলিশের অবহেলা ব্যবসা পরিচালনা আরও কঠিন করে তুলেছে।

সভায় প্রযুক্তিনির্ভর চেম্বার গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, চেম্বারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবা চালু করা হবে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটা সেন্টার গড়ে তোলা হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা সহজে তথ্য যাচাই ও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বলা হয়, চট্টগ্রাম চেম্বারকে বিশ্বমানের সংগঠনে রূপ দিতে গবেষণাভিত্তিক একটি রিসার্চ সেল গঠন করা হবে। এই সেল ব্যবসা, বিনিয়োগ, পর্যটন ও শিল্পখাতে নীতিনির্ধারণে সহায়তা করবে।

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত