শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

ঋতুপর্ণার পায়ের জাদুতে ইতিহাসের দুয়ারে বাংলাদেশ

সাইফুল ইসলাম

ভিনদেশি গ্যালারির প্রতিটি আসন যেন একেকটি চ্যালেঞ্জ। ১৮ হাজারেরও বেশি সমর্থক যখন গলা ফাটিয়ে স্বাগতিকদের জন্য চিৎকার করছে, তখন সেই শব্দের মাঝে বাংলাদেশের মেয়েরা খেলছিল নিরব অথচ দৃঢ় এক আত্মবিশ্বাস নিয়ে। আর সেই আত্মবিশ্বাসের নাম ঋতুপর্ণা চাকমা।

এই পাহাড়ি কন্যা যেন একাই লিখে দিলেন এক নতুন অধ্যায়। এশিয়ান কাপে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে এলেন ইতিহাসের দোরগোড়ায়। র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৩ ধাপ এগিয়ে থাকা মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করলেন দুই অমূল্য গোল করে। গ্যালারির ১৮ হাজার কণ্ঠ মুহূর্তেই স্তব্ধ। বাংলাদেশের মেয়েদের কণ্ঠে তখন কেবল উল্লাস, আর চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই র‍্যাঙ্কিং নিয়ে ছিল নানা আলোচনা। ১২৮ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের সামনে ৯২, ৭৩ নম্বরে থাকা দল। কিন্তু মাঠের খেলায় সব সংখ্যা ভুল প্রমাণ করলেন ঋতুপর্ণারা। বাহরাইনকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে শুরু। সেই ম্যাচেও এক অনন্য গোল করেছিলেন ঋতুপর্ণা বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ম্যাচের ১৮ মিনিটেই গোলের খাতা খুলে দেন ঋতুপর্ণা। যদিও প্রথমে তাঁর ফ্রি-কিক মানবপ্রাচীরে আটকে যায়, ফিরতি বলে দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি। বাঁ পায়ের ছোয়া বলটি মিয়ানমারের জালে কাঁপিয়ে দেয়।

ম্যাচের ৭২ মিনিটে তাঁর দ্বিতীয় গোলটি ছিল চোখ জুড়ানো এক শিল্পকর্ম। দূর থেকে নেওয়া শটটিও ঠেকাতে ব্যর্থ হয় মিয়ানমারের রক্ষণ। সেই গোলেই বাংলাদেশের জয় সুনিশ্চিত হয়।

দুই ম্যাচে দুই জয়। ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে বাংলাদেশ। এখন কেবল অপেক্ষা তুর্কমেনিস্তান ও বাহরাইনের ম্যাচের ফলাফলের। যদি ড্র বা বাহরাইন জয়ী হয়, তাহলে বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথমবারের মতো খেলবে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে।

ঋতুপর্ণা বলেন, “আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলতে এসেছি এবং নিজের সেরা দিতে চেষ্টা করেছি। আজকের জয়ে আমরা দেশকে কিছু দিতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

ঋতুপর্ণার এই কীর্তি শুধু একটি ম্যাচজয় নয়, এটি বাংলাদেশের নারীদের জন্য এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন। পাহাড়ি এক মেয়ে আজ বাংলাদেশের কোটি হৃদয়ে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন, সাহস, পরিশ্রম আর নিষ্ঠা থাকলে ইতিহাস লেখা সম্ভব যেকোনো প্রান্ত থেকেই।

 

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত