সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬

চট্টগ্রামে গৃহবধূ মীমের মৃত্যু, পরকীয়ার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
[news_photocard_button text="Your custom text"]

চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিংয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মীম আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর সঙ্গে অন্য নারীর সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্বামী মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ৩১ অক্টোবর, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মীম। পরদিন রোববার তাঁর বাবা খোকন মিয়া ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মীমের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া ইউনিয়নে। তাঁর স্বামী মেহেদী হাসান সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটের বকুলতলা এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে। বিয়ের পর তাঁরা ডবলমুরিং থানার নাজিরপুল এলাকার আব্দুল মালেকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মীমের আগের সংসারে তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। প্রথম বিয়ের বিচ্ছেদের পর প্রায় চার মাস আগে মেহেদীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মেহেদীর সঙ্গে অন্য এক নারীর সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন মীম। এরপর থেকে এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার আগের দিন শুক্রবার ওই নারীর সঙ্গে মেহেদীর আপত্তিকর একটি ভিডিও মায়ের কাছে পাঠিয়ে সংরক্ষণ করতে বলেন মীম। ওই রাতেও বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে মীমের চিৎকার শুনে তাঁর বাবা ও স্বজনেরা ঘরে ছুটে যান। এ সময় তাঁরা মীমের শরীরে আগুন জ্বলতে দেখেন। ঘরে তখন তাঁর স্বামী মেহেদীও ছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মীমের মা লাকি আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছিলেন। স্বামীর সঙ্গে অন্য নারীর সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের সংসারে অশান্তি চলছিল। ঘটনার পর ঘরের বিছানা, বালিশসহ বিভিন্ন স্থানে পোড়ার চিহ্ন দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ ফয়সাল বলেন, ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএস

[ad_nfYePqtZ]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত