প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ বুধবার শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকাল থেকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে পূজা-অর্চনা। এরপর ধর্মীয় রীতি মেনে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা। বিদায়ের সুরে মণ্ডপে মণ্ডপে তৈরি হবে বিষাদের আবহ, পাশাপাশি আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশায় থাকবেন তারা।
চট্টগ্রাম নগরীতে প্রতিমা বিসর্জনের প্রধান আয়োজন করা হয়েছে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। এ ছাড়া অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। সকালে দশমীর পূজা শেষে দুপুরের পর থেকে নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে শোভাযাত্রাসহ প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। এ আয়োজন ঘিরে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।
বিসর্জন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গোৎসব। মঙ্গলবার মহানবমীর পূজা ও আরতি শেষে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তদের মধ্যে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ে বিদায়ের বিষাদ। মহানবমীতে নগরীর বিভিন্ন মণ্ডপে গভীর রাত পর্যন্ত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন, ভোগ প্রদান ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
নগরীর চকবাজার, চেরাগী পাহাড়, জামালখান, প্রবর্তক মোড়, দেওয়ানজী পুকুর, রাজাপুর লেন, পাথরঘাটা, আন্দরকিল্লা, হাজারী লেন, নালাপাড়া, আগ্রাবাদ, মুরাদপুর, উত্তর কাট্টলি ও দক্ষিণ কাট্টলিসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপে ছিল ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি।
এবার চট্টগ্রাম মহানগরে ২৯৪টি এবং জেলায় ১ হাজার ৪৬৫টিসহ মোট ১ হাজার ৭৫৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
হিন্দুশাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। এদিন বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন সনাতনী নারীরা। ধর্মীয় রীতি অনুসারে, দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করে তা নিজেদের সিঁথি ও কপালে ধারণ করেন তারা। পরে একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে শুভকামনা জানান।
বিজয়া দশমীর তাৎপর্য কেবল প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের ভেতরের কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো অসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দেওয়াও এ উৎসবের অন্যতম শিক্ষা। নেতিবাচক প্রবৃত্তি পরিহার করে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তাও দেয় দুর্গোৎসব।
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হবে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে ভক্তদের মনে থাকবে বিষাদ, আর সেই সঙ্গে থাকবে আগামী শরতে আবারও দেবীর আগমনের অপেক্ষা।
এসএস
