রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
[ad_m4LjshC9]

পণ্য ছাড়াই কাগজে সাড়ে ৫ কোটি টাকার রপ্তানি, পাঁচ চালান আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

কনটেইনারে কোনো পণ্য নেই, অথচ কাগজপত্র ও কাস্টমসের অনলাইন ব্যবস্থায় দেখানো হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার রপ্তানি। এমন সন্দেহজনক পাঁচটি রপ্তানি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

আটক চালানগুলোর রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেড। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাঁচটি চালানে মোট ১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ কেজি পণ্য রপ্তানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের ঘোষিত রপ্তানিমূল্য ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

তবে সংশ্লিষ্ট ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে সরেজমিনে গিয়ে ঘোষিত পণ্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

[ad_OwixA1az]

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর এএসওয়াইসিইউডিএ ওয়ার্ল্ড ব্যবস্থায় রপ্তানি কনসাইনমেন্ট যাচাইয়ের সময় ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের পাঁচটি চালান নজরে আসে।

প্রাথমিক বিশ্লেষণে চালানগুলোর গন্তব্য দেশ, পণ্যের ধরন ও ঘোষিত ওজনের মধ্যে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। একই সঙ্গে বন্ডেড প্রতিষ্ঠানটির গত এক বছরে আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণের তুলনায় ঘোষিত রপ্তানি পণ্যের পরিমাণও অস্বাভাবিকভাবে বেশি বলে মনে হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এই পরিমাণ স্বাভাবিক ইনপুট-আউটপুট কো-এফিশিয়েন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব অসঙ্গতির কারণে চালানগুলো আটক করে অধিকতর যাচাই শুরু করা হয়। দাখিল করা বিল অব এক্সপোর্ট অনুযায়ী, পাঁচটি চালানের পণ্য ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো থেকে রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তারা ওই ডিপোতে সরেজমিনে গিয়ে ঘোষিত পণ্য পরীক্ষণের জন্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। কিন্তু ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোনো পণ্যই পরীক্ষণের জন্য উপস্থাপন করতে পারেননি।

সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জানানো হয়, রপ্তানির জন্য ঘোষিত এসব পণ্য আদৌ ডিপোতে প্রবেশ করেনি। তদন্তে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—পণ্য ডিপোতেই প্রবেশ না করলে কীভাবে এসব চালানের কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো?

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এ বিষয়ে ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কাছ থেকে এখনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

পাঁচটি চালানে কাগজে-কলমে প্রায় ১২১ মেট্রিক টন পণ্য রপ্তানি দেখানো হয়েছে। এর বিপরীতে ঘোষিত রপ্তানিমূল্য ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫ কোটি ৪২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯২ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। তবে আলোচ্য পাঁচটি চালানের গন্তব্য হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

গন্তব্য দেশ, পণ্যের ধরন ও ঘোষিত পরিমাণের মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়ায় চালানগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে পণ্যের বাস্তব অস্তিত্ব ছাড়াই পাঁচটি চালানের বিপরীতে রপ্তানি প্রদর্শনের চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, কাস্টমসের নথি এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।

ঘটনায় রপ্তানিকারক ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেড, সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো এবং কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য কাস্টমস আইনসহ অন্যান্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্লিক/এসএস

[ad_ujVHoYsI]

[ad_nfYePqtZ]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত