মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
[ad_m4LjshC9]

খালেদা জিয়াকে নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের বিস্ময়কর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের আলোচিত আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রক ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’ সম্প্রতি প্রকাশিত একটি দীর্ঘ অডিও বার্তায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ঘিরে বহু বছর আগের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়াকে নিরাপদে বের করে আনতে তিনি ও তার সহযোগীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

২৯ জুন, সোমবার সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই অডিও বার্তায় সাজ্জাদ দাবি করেন, সে সময় খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। হাসপাতালের বাইরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থানের কারণে তিনি বের হতে পারছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার অনুরোধে তিনি সহযোগীদের নিয়ে হাসপাতালে যান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে পৌঁছে প্রথমে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে খালেদা জিয়ার নিরাপদে হাসপাতাল ত্যাগের ব্যবস্থা করা হয়। ওই সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুন নবী খান সোহেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।

[ad_OwixA1az]

অডিও বার্তায় সাজ্জাদ আরও বলেন, ওই অভিযানে তার সঙ্গে অংশ নেওয়া কয়েকজন সহযোগী পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমানে তিনিই একমাত্র জীবিত প্রত্যক্ষ সাক্ষী বলে দাবি করেন তিনি।

তবে বড় সাজ্জাদের এসব বক্তব্যের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

অডিও বার্তার শুরুতে সাজ্জাদ দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার নামে বিভিন্ন বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে তিনি বলেন, কেউ তার পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ দাবি করলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো উচিত।

অডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার পরিবারের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক নির্যাতন শুরু হয়। তার দাবি, ১৯৯৮ সালে তার বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, গবাদিপশু ও পোষা কুকুর হত্যা এবং পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ঘটনাও ঘটে। একই সময়ে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

সাজ্জাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে আদালতে ওই মামলায় তিনি খালাস পেলেও ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ধারাবাহিকভাবে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে মামলাগুলোর আইনি মোকাবিলা করেন এবং কারাগারেও ছিলেন। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে বিদেশে চলে যান। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও উল্লেখ করেন।

নিজের ছাত্রজীবনের প্রসঙ্গ টেনে সাজ্জাদ বলেন, তিনি চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন এবং একসময় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। তবে রাজনৈতিক সংঘাত ও মামলার কারণে তার জীবন ভিন্ন পথে মোড় নেয় বলে দাবি করেন।

অডিও বার্তায় তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। তার দাবি, ভাই ওসমান আলীসহ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়েছে। থানা ভাঙচুর ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলাতেও তাদের জড়ানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বিয়েবাড়ি ও হাসপাতাল থেকে আটক করার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, সাজ্জাদ সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে চাইলে বিষয়টি আদালত বিবেচনা করবে। আইনের দৃষ্টিতে তিনি অপরাধী না হলে অপরাধী নন, আর অপরাধী হলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

এসএস

[ad_ujVHoYsI]

[ad_nfYePqtZ]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত