শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

বান্দরবানে প্রক্সি শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

বান্দরবান প্রতিনিধি

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘প্রক্সি শিক্ষক’ বা একজনের বদলে অন্যজনের ক্লাস নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

১১ মে, মঙ্গলবার দুপুরে এক দিনের সরকারি সফরে বান্দরবান সদরের রেইছা প্রাইমারী টিচার ট্রেনিং সেন্টার (পিটিআই) পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বিশেষ করে পার্বত্য এলাকাগুলোতে প্রক্সি শিক্ষকের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তবে আগামীতে বাংলাদেশে প্রক্সি টিচারদের কোনো জায়গা থাকবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের প্রাথমিক পর্যায়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাংলা ও গণিতের মতো মৌলিক বিষয়ে প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। শিক্ষকরা যেদিন শিক্ষকতাকে নিছক চাকরি মনে না করে একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করবেন, সেদিন থেকেই প্রতিটি শিশু প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে শিক্ষার মান অনেকটা নিম্নমুখী হলেও বর্তমান সরকার তা আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

পিটিআই পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এবং প্রশিক্ষণরত শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। এর আগে তিনি লামা উপজেলার নুনাবিল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ফাঁসিয়াখালী অংহ্লারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। নুনাবিল মডেল বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি স্কুল এমন পরিপাটি ও গোছানো হলে প্রাথমিক শিক্ষা অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

সফরকালে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক নিয়োগ ও তদারকি প্রক্রিয়া পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া, শিক্ষকদের গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবি জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী এসব দাবি গুরুত্বের সাথে নোট করে নেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তিগত সুবিধা ও উন্নত প্রশিক্ষণের আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, আলীকদম উপজেলার ইউএনডিপির অর্থায়নে পরিচালিত তিনটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক অনুপস্থিতির বিষয়ে সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তলব করেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিমন্ত্রীর এই সফরে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু তালেব, পিটিআই পরিচালক ফজলুল হক ভূইয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফা সুলতানা খান হীরামনি ও মো. মঈন উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

ক্লিক/এসএস

[Image not available]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত