কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বাজারে কমতে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন মসলার দাম।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম কমেছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ১০০ টাকায়, যা চলতি সপ্তাহে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯০০ টাকায়। একই সময়ে লবঙ্গের দাম কেজিতে ৫০ টাকা কমে হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা। এছাড়া জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ টাকা এবং গোল মরিচ ১ হাজার ১০ টাকায়।
একদিকে বাজারে দাম কমছে, অন্যদিকে কমেছে আমদানিও। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২ হাজার ৭৯৩ মেট্রিক টন জিরা, ১ হাজার ২৫৭ মেট্রিক টন লবঙ্গ, ১ হাজার ৯৮ মেট্রিক টন এলাচ এবং ৩৪৬ মেট্রিক টন জয়ফল আমদানি হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এসব মসলার আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। তবে দারুচিনি, গোলমরিচ ও জয়ত্রীর আমদানি কিছুটা বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ সামনে রেখে বাজারে মসলার সরবরাহ বাড়লেও সেই অনুপাতে বিক্রি বাড়েনি। ফলে পাইকারি পর্যায়ে দাম কমতে শুরু করেছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও।
খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত মসলা রয়েছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়মিত আমদানি হওয়ায় সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। এছাড়া সীমান্তপথে অবৈধভাবে মসলা প্রবেশ করায় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়েছে, যা দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে জিরা, লবঙ্গ, এলাচ ও জয়ফলের আমদানি কিছুটা কমলেও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যদিকে দারুচিনি ও গোল মরিচের আমদানি বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি খরচ বাড়লেও কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, অনেককে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, ঈদের আগে মসলার দাম কমায় রান্নার বাজার কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
বাংলাদেশ পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট অমর কান্তি দাশ বলেন, “ব্যবসায়ীদের হাতে আগের মতো এলসি খোলার সক্ষমতা নেই। আমদানির খরচ বেশি হলেও বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও দেশের অন্যান্য বন্দর দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ মসলা আমদানি হচ্ছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা নেই।”
এসএস



