রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি: রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার শেষ যাত্রা পদ্মায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
[news_photocard_button text="Your custom text"]

রানা প্লাজা ধসের সেই ভয়াবহতা থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের নাসিমা বেগম (৪০)। কিন্তু জীবনের কঠিন লড়াইয়ে জয়ী এই নারী শেষ পর্যন্ত হার মানলেন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।

ঈদ শেষে ২৫ মার্চ, বুধবার বিকেলে নাসিমা বেগম তাঁর অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমানকে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীবাহী বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তেই তারা সবাই পানিতে তলিয়ে যান।

স্থানীয়দের সহায়তায় আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নাসিমা, আজমিরা, শিশুর রহমানসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করতে সময় লেগেছে প্রায় ছয় ঘণ্টা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

দুঃখের ওপর দুঃখ

নিহতদের মরদেহ নিয়ে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় স্বজনরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু।

শেষ ঠিকানা

২৭ মার্চ, শুক্রবার জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহগুলো দাফন সম্পন্ন হয়।

স্বজনরা জানান, রানা প্লাজা ধসের সময় নাসিমা ভবনের ভেতরে কর্মরত ছিলেন। টানা তিন দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন গ্রামের বাড়িতে ছিলেন তিনি। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে আবার ঢাকায় ফেরেন—আর সেই পথটাই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা।

পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আ. ওয়াদুদ বলেন, “নিহত পরিবারের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।”

এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

এসএস

[ad_nfYePqtZ]
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

সম্পর্কিত